Header Ads

✪'হাজ্জ ও ওমরাহ'✪ প্রথম পর্ব



                                ✪'হাজ্জ ও ওমরাহ'✪

                                                                 প্রথম পর্ব

আলহামদুলিল্লাহি ওয়াহদাহু ওয়াছলাতু ওয়াছালামু য়ালামাল্লানাবীয়া বায়দাহ।
সমস্ত প্রসংসা সেই মহান আল্লাহ তা’আলার জন্য যিনি আমাদের হাজারো ব্যাস্ততার মধ্যেও তার দ্বীনের (নাযিল করা  আসমানী) জ্ঞান অর্জন করার মত সময় ও সুযোগ দিয়েছেন। দরুদ ও সালাম বর্শিত হোক আমাদের প্রিয় রসূল মোহাম্মাদ (সঃ)-এর উপর, তার সহধর্মীগনের উপর, সাহাবা (রাঃ)হুম দের উপর এবং কেয়ামত পর্যন্ত তার (সঃ) অনুসারীগনদের উপর। আল্লাহুম্মাহ সাল্লিয়ালাহ, আল্লাহুম্মাহ বারাকয়ালাহ।  

🙌 সম্মানিত পাঠক আজ ইসলামের অন্যতম একটি ফরয বিষয় নিয়ে আলোচনা করব তা হলো হাজ্জ। হাজ্জ ইসলামের পঞ্চমস্তম্ভের অন্যতম। সামর্থবান মুমিনদের জন্য যত দ্রুত সম্ভব ইসলামের এই রুকুন আদায় করা ফরয। হাজ্জ মুমিনদের যেমন আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌছে দেয়, তেমনি তার আত্নিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালক করে।

উল্লেখ্য যে কোন আমলই কবুল হয় না তিনটি শর্ত পূরণ করা ব্যাতিত।
    1.   বিশুদ্ধ আকিদা
    2.   বিশুদ্ধ তরিকা  
3   3.   ইখলাছ সহ নিয়ত
অতএব, আমাদের এই তিনটি বিষয়ের দিকে লক্ষ রেখে জীবনের প্রত্যেকটি ইবাদত করতে হবে। যাতে আমাদের ইবাদত আল্লাহর নীকট কবুলযোগ্য হয়।
আমাদের মূল বিষয়ে চলে আসি।

·         শব্দ বিশ্লেষণঃ
‘হাজ্জ’ একটি আরবি শব্দ যার আভিধানিক অর্থঃ সংকল্প করা। আর শরিয়াতের পরিভাষায় আল্লাহর নৈকট্য হাছিলের উদ্দেশ্যে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে শরী’আত নির্ধারিত ক্রিয়া-পদ্ধতি সহকারে মক্কায় গিয়ে বায়তুল্লাহ যেয়ারত করার সংকল্প করা।
                                  (হজ্জ ও ওমরাহঃ ০৭ পৃঃ)
·         হাজ্জ-এর সময়কালঃ
হাজ্জের জন্য নির্দিষ্ট্য তিনটি মাস হল শাওয়াল, যুলক্বা’দাহ ও যুলহিজ্জাহ। এ মাসগুলির মধ্যেই যেকোন সময় হাজ্জ ইহরাম বেধে বায়তুল্লাহর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিতে হয় এবং ৯ই যিলহাজ্জ তারিখে আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করতে হয়। ৯ তারিখে আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করতে না পারলে তার হাজ্জ হবে না। পক্ষান্তরে ‘ওমরাহ’ করা সুন্নাহ যা যেকোন সময় পালন করা যায়। এ বিষয়ে আমদের অবশ্যই জানা জরুরী যে হাজ্জ ও ‘ওমরাহ’ পালনের বিধান সম্পূর্ণ এক নয়।

·         হুকুমঃ
নিরাপদ ও সুষ্ঠু যোগাযোগ ব্যাবস্থা সহ দৈহিক ও আর্থিকভাবে সামর্থবান মুমিনের জন্য জীবনে একবার হাজ্জ করা ফরয। (সূরা আলে-ইমরানঃ৯৭) 
আর যার উপর হাজ্জ ফরয তার উপর ‘ওমরাহ’ ওয়াজিব। (বায়হাক্বীঃ৪/৩৫০)। অধিকবার হাজ্জ বা ‘ওমরা’ করা নফল।

·         হাজ্জ ফরযের সময়কালঃ
৯ম অথবা ১০ম হিজরীতে হাজ্জ ফরয হয়। ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) এ মতকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে জমহুর বিদ্বানগণের মতে ৬ষ্ট হিজরীতে হাজ্জের হুকুম নাযিল হয় এবং রসূলুল্লাহ (সঃ) ১০ম হিজরীতে জীবনে একবার ও শেষবার সপরীবারে হজ্জ করেন।(ফিক্বহুস সুন্নাহঃ ১/৪৪২, ৪৪৪)
তিনি জীবনে মোট ৪বার ‘ওমরা’ করেন। (মুত্তাফাক্ব আলাইহ মিশকাতঃ ২৫১৮)

·         ফযীলতঃ
রসূল (সঃ) বলেন, যে ব্যাক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হাজ্জ করেছে। যার মধ্যে সে অশ্লীল কথা বলেনি বা অশ্লীল কার্য করেনি, সে হাজ্জ হ’তে ফিরবে সেদিনের ন্যায় (নিস্পাপ অবস্থায়) যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিলেন। (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাতঃ ২৫০৭)
রসূল (সঃ) বলেন, ‘এক ওমরাহ অপর ওমরাহ পর্যন্ত সময়ের (ছগীরা গোনাহ সমুহের) কাফফারা স্বরূপ। আর কবুল হাজ্জের প্রতিদান জান্নাত ব্যতীত কিছুই নয়’। (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাতঃ ২৫০৮)
রসূল (সঃ) ইরশাদ করেন, ইসলাম হিজরত এবং হাজ্জ মুমিনের বিগত দিনের সকল গুনাহ ধ্বসিয়ে দেয়। (মুসলিম, মিশকাতঃ ২৮)
                                       
                                            (সমাপ্ত)
                                                             https://waytoallahpath.blogspot.com/


আমাদের ইউটিউব ্চ্যানেলের ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন

No comments

Powered by Blogger.